তাপ প্রবাহ থেকে মুক্তি পেতে এই নিয়মগুলি একটু মেনে চলুন

heat-wave stoke very hot weather temperature

এই মুহূর্তে তাপপ্রবাহ ভীষণভাবে বিপদজনক। আরো তাপ প্রবাহ বাড়বে। তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে মেনে চলুন সহজ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

কী করবেন?

  • তৃষ্ণার্তবোধ না করলেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর জলপান করুন। সবসময় পানীয় জল সঙ্গে রাখুন।
  • সূর্যালোকে বেরোনোর সময় হাল্কা রং-এর ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। মাথায় সর্বদা টুপি বা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং ছাতা ব্যবহার করুন। পায়ে জুতা চপ্পল পরে তবেই বাইরে বেরাবেন। হাল্কা খাবার খান ও জলীয় অংশ বেশী আছে এরকম ফল যেমন তরমুজ, শশা ইত্যাদি খান।
  • বাড়িতে তৈরী পানীয় যেমন লেবুজল বা সরবত পান করুন।
  • প্রয়োজনীয় কৃষিকাজ সকাল ও বিকেলের মধ্যে সম্পন্ন করুন। পশুদের ছায়াযুক্ত আশ্রয়ে রাখুন ও তাদের যথেষ্ট পরিমানে জল খাওয়ান।
  • ঘর ঠান্ডা করতে পর্দা, খসখস, সানশেড ইত্যাদি ব্যবহার করুন। রাতে দরজা জানালা খুলে রাখুন।
  • স্থানীয় আবহাওয়ার সতর্কবার্তার দিকে খেয়াল রাখুন।
  • অসুস্থ হলে দেরী না করে চিকিৎসক অথবা স্বাস্থ্য কর্মীর পরামর্শ নিন।

কী করবেন না

  • প্রয়োজন ব্যতিত প্রখর সূর্যলোকে না বেরানোর চেষ্টা করুন।
  • তাপপ্রবাহের সতর্কতায় দুপুর ১১ টা থেকে ৪ টে পর্যন্ত বাড়ির বাইরে না বেরোনোই ভালো।
  • দিনের বেলার তীব্র রোদে বেশী পরিশ্রমসাধ্য কাজ না করাই ভাল।
  • থামিয়ে রাখা গাড়িতে শিশু ও গৃহপালিত পশুদের রেখে যাবেন না।
  • বেশী প্রোটিনযুক্ত ও মশলাদার খাবার খাবেন না।

কোনো ব্যক্তি হিটস্ট্রোকে অসুস্থ হলে কী করবেন

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘরের ভিতরে ছায়াযুক্ত অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলে নিয়ে যান।
  • ভিজে কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছিয়ে দিন।
  • লবন জল/ নুন-চিনি যুক্ত জল / ORS প্রয়োজনে খাওয়াতে থাকুন। তবে খাবার বা জল সম্পূর্ণ জ্ঞান ফেরার পরেই কেবলমাত্র দেওয়া যাবে।
  • অবস্থার উন্নতি না হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যান।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলো হচ্ছে-

  • শরীর প্রচণ্ড ঘামতে শুরু করে আবার হঠাৎ করে ঘাম বন্ধ হয়ে যায়
  •  নিঃশ্বাস দ্রুত হয়
  • নাড়ির অস্বাভাবিক স্পন্দন হওয়া অর্থাৎ হঠাৎ ক্ষীণ ও দ্রুত হয়
  • রক্তচাপ কমে যায়
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়
  • হাত পা কাঁপা, শরীরে খিঁচুনি হয়
  • মাথা ঝিমঝিম করা
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • ব্যবহারে অস্বাভাবিকতার প্রকাশ
  • কথা-বার্তায় অসংলগ্ন হওয়া।

হিট স্ট্রোক হলে বা লক্ষণ দেখা দিলে

  • হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলেই প্রথমে শরীরের তাপ কমানোর জন্য ঠাণ্ডা বরফ জল দিয়ে শরীর মুছে দিন
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে শীতল পরিবেশে নিয়ে আসুন
  • শরীরের কাপড় যথাসম্ভব খুলে নিন
  • প্রচুর ঠাণ্ডা জল, ফলের শরবত অথবা স্যালাইন পান করতে দিন
  • হিট স্ট্রোক হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে যত তারাতারি সম্ভব স্থানীয় হাসপাতালে নিতে হবে।

যেকোনো বয়সের মানুষের হিট স্ট্রোক হতে পারে। তবে, শিশু ও বৃদ্ধদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
যাদের শরীর খুব দুর্বল তারাও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

এই গরমে সুস্থ থাকতে নিয়মিত দিনে দুইবার স্নান করুন। খাবারে প্রচুর শাক-সবজি আর ফল রাখুন।
হিট স্ট্রোকে অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এমন কী মৃত্যুও হতে পারে। তাই আমাদের গরমের এই সময়টায় সাবধানে থাকতে হবে। বেশি বেশি তরল খাবার খেতে হবে। রোদে বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন।

ঠাণ্ডা খেতে হবে। কিন্তু রাস্তার পাশের খোলা কাটা ফল, শরবত খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে ডায়রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

গরমে থাকার খাবার সম্পর্কে পরামর্শ

গরমে ঘামের সঙ্গে সোডিয়াম পটাশিয়াম বেরিয়ে যায় সে জন্য দুর্বলতা বোধ যেমন হয় তেমনি আবার জলের স্বল্পতা দেখা দেয়। এ জন্য এ সময় কিছুক্ষণ পরপর লবণ ও লেবুর রস দিয়ে জল পান করা প্রয়োজন। জল দেহের ভেতরটাকে পরিশোধিত করে। এ সময় তরমুজ, তুকমা, তেঁতুল, বেল, ইসবগুল, কাঁচা আম দিয়ে শরবত করে খাওয়া যেতে পারে।

প্রতি বেলায় খাবারের সঙ্গে টকদই রাখতে পারলে ভালো হয়। টকদই প্রোবায়োটিকের কাজ করে। শরীর সুস্থ অর্থাৎ জীবাণুর হাত থেকে বাঁচায়। এ ছাড়া ইসবগুল, তেঁতুল, কাঁচা আম শরীরকে স্নিগ্ধ শীতল রাখে। গরমের সময় গুরুপাক খাবারে শরীর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে আরও গরম লাগে। এছাড়া হজমের গোলমাল, অনিদ্রা, বমি ভাব, চেহারায় ক্লান্তির ছাপ ইত্যাদি দেখা যায়। এ সময় ঝাল মসলা যত কম খাওয়া হয় ততো ভালো।

দুপুর ও রাতের খাবারে ঠাণ্ডা স্যালাড রাখলে ভালো হয়। গরমের দুপুরে সব সবজি দিয়ে নিরামিষ বা সুপ্ত করে খেলে ভালো হয়। ভাতের সঙ্গে আম, কামরাঙ্গা, আমড়া, আনারস ইত্যাদির টক ছোট মাছের ঝোল, সুসিদ্ধ ডাল ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

প্রাতঃরাশে চিড়া-কলা-দই, সিদ্ধ ডিম, সিদ্ধ আটার রুটি, পাউরুটি, সাদা সবজি, জেলি, নরম খিচুড়ি ইত্যাদি রাখা যেতে পারে। কেউ কেউ গরমের সময় পান্তাভাত খেতে পছন্দ করেন। এতে শরীর যেমন ঠাণ্ডা থাকে তেমনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। আবার শরীরে জলের অভাব দূর হয়। রাতের খাবারের পরিমাণ দুপুরের চেয়ে কম হওয়া উচিত। কারণ রাতের দিকে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম যেমন কমে যায় তেমনই বিপাক ক্রিয়ার হারও কম থাকে।

গরমের সময় অনেকেরই পেট খারাপ বা ডায়রিয়া দেখা যায়। পেটের গোলমাল যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে স্বাস্থ্য যেমন নষ্ট হয় তেমনই দেহের লাবণ্য নষ্ট হয়। গরমের পৃথক কোনো খাবার নেই। খাবার হবে সুষম ও সহজপাচ্য ও জলীয়। বাজার করার সময় সবজি ও ফল অবশ্যই কিনতে হবে। দেহ মন যাতে সুস্থ সতেজ থাকে এমন খাবারই গরমের সময় খেতে হবে।

গরমের সময় খাবার গ্রহণের কিছু টিপস-

  • এ সময় শরীর থেকে জল ও লবণ বেরিয়ে যায় বলে খেতে হবে তরমুজ, শসা, ডাব, আম ইত্যাদি। এ ছাড়া জল জাতীয় সবজি যেমন লাউ, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, পটোল হালকা তেলে রান্না করে খেতে হবে।
  • এ সময় অঙ্কুরিত-ছোলা-মুগ খেলে ভালো হয়।
  • প্রতিদিন লেবু বা লেবুর শরবত খাওয়া উচিত।
  • দিনে ৮-১০ গ্লাস জল পান করতে হবে।
  • ডুবো তেলে ভাজা খাবার এবং গুরুপাক খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
  • শুকনো ফলের পরিবর্তে তাজা ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • তীব্র রোদে ঘুরে আসার পর অতিরিক্ত ঠান্ডা জল অথবা খাবার খাওয়া উচিত নয়। এতে আরাম হলেও শরীরের তাপমাত্রা তারতম্যের জন্য ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে।
  • হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার জন্য লবণ দিয়ে কাঁচা আম খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
  • ডাবের জল এ সময় খুবই উপকারী। এতে আছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, সালফার ও ক্লোরিন।
  • তরমুজ তৃষ্ণা নিবারণে অব্যর্থ। এতে আছে বিটা ক্যারোটিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও লাইক্লোপেন। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

আপনারা সবাই খুব সচেতন থাকুন ও সমাজকে সচেতন রাখুন।সবাই খুব সুস্থ থাকবেন