টাটা মুম্বাই টাটা ক্যান্সার হসপিটালে কিভাবে ডক্টর দেখাবেন?

টাটা মুম্বাই টাটা ক্যান্সার হসপিটাল

বিশ্বের দ্বিতীয়তম এবং সমস্ত ভারতবর্ষের সবচাইতে বেস্ট টাটা মুম্বাই টাটা ক্যান্সার হসপিটালে কিভাবে ডক্টর দেখাবেন এবং কিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা করাবেনঃ

কি কি ক্যান্সার চিকিৎসা হয়:-

  • স্তন ক্যান্সার (মহিলা স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ উপলব্ধ)
  • প্রোস্টেট, কিডনি এবং
  • মূত্রাশয় ক্যান্সার
  • লিভার, গল ব্লাডার এবং প্যানক্রিয়াস ক্যান্সার
  • পেট এবং কোলন ক্যান্সার (বড় অন্ত্র)
  • পেডিয়াট্রিক ক্যান্সার
  • মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার
  • ফুসফুস ও খাদ্যনালীর ক্যান্সার (খাদ্য পাইপ)
  • জরায়ু ও জরায়ুর ক্যান্সার
  • লিম্ফ্যাটিক কোষের ক্যান্সার
  • ব্লাড ক্যান্সার

টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে রোগীর পদ্ধতি কি?

  1. ভর্তির জন্য হাসপাতালের ডিপোজিট: রোগীদের একটি হাসপাতালের আমানত দিতে হবে যা চিকিত্সার পদ্ধতি এবং রুমের বিভাগের উপর নির্ভর করবে। এছাড়াও, এই বিল চূড়ান্ত বিলে সমন্বয় করা হয়। যাইহোক, আপনাকে বিলিংয়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে। প্রতিটি বিভাগের সুবিধার জন্য পয়েন্ট ও দেখুন
  1. ভর্তির জন্য অপেক্ষার তালিকা: রোগীদের তাদের চিকিৎসক ডাক্তারের দ্বারা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া উচিত তাদের নাম সংশ্লিষ্ট OPD-এর অপেক্ষা তালিকায় লিখতে হবে। বিছানা পাওয়া মাত্রই রোগীদের অবহিত করা হয়। যদি আপনি একজন ব্যক্তিগত রোগী হন, তাহলে আপনাকে রুমের বিভাগের পছন্দের উপর নির্ভর করে অপেক্ষা তালিকা জমা দিতে হবে। এছাড়াও, এই আমানত চূড়ান্ত বিলে সমন্বয় করা হয়।
  2. টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে বর্তমানে রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫৩০ শয্যা রয়েছে। সমস্ত কক্ষে কল বেল সিস্টেম ছাড়াও অক্সিজেন এবং ভ্যাকুয়ামের কেন্দ্রীয় সরবরাহের সুবিধা রয়েছে।

নিম্নোক্ত কক্ষগুলির বিভাগগুলি রয়েছে:

  • সাধারণ ওয়ার্ড : পরিচারকের জন্য একটি স্টুল সহ বিছানা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিরাপদ রাখার জন্য একটি ক্যাবিনেট নিয়ে গঠিত। এছাড়াও, প্রতিটি উইংয়ে বাথরুম এবং টয়লেট সুবিধা রয়েছে। রোগীরা এই সুবিধা ভাগ করে নেয়।
  • সেমি প্রাইভেট রুম (বি বিভাগ) : শেয়ার্ড অকুপেন্সির জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, টেলিভিশন, শেয়ার্ড বাথরুম সুবিধা এবং পরিচারকদের জন্য একটি পালঙ্ক।
  • প্রাইভেট রুম (ক্যাটাগরি এ) : একক দখল, অ্যাটাচড বাথরুম সহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, টেলিভিশন এবং অ্যাটেনডেন্টের জন্য একটি সোফা কাম বেড।
  • ডিলাক্স রুম (ক্যাটাগরি ডি) : বাথরুম, টেলিফোন, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর এবং পরিচারকের জন্য একটি বিছানা সহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ।

প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য

ব্লাড ক্যান্সারের রোগীদের প্রায়ই আইটি এমটিএক্স পিঠের ইনজেকশন দিতে হয়। এজন্য আপনাকে যেতে হবে গোল্ডেন জুবিলি বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার মাইনর অপারেশন থিয়েটার কক্ষে। সেখানে গিয়ে ঠিক বেলা একটায় ফাইল জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণত আইটি এমটিএক্স পিঠের ইনজেকশন দেওয়া হয় বেলা তিনটা থেকে।

কখনো যদি ব্লাড কালচার পরীক্ষার জন্য রক্তের বোতল জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, সেটা জমা দেবেন মেইন বিল্ডিংয়ের লাগোয়া এনেক্স বিল্ডিংয়ের ষষ্ঠ তলায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে।

প্রাইভেট রোগীদের রক্তদানের পদ্ধতি

ডাক্তারের নির্দেশনা অনুসারে মেমো তৈরি করে নিতে হবে। বিকেল ৫টার পর বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্যাজুয়ালিটির [কক্ষ#৭৭] রিসিপশন থেকে বারকোডসহ মেমো সংগ্ৰহ করতে হবে। আগে হোমিবাবা সার্ভিস ব্লকের ষষ্ঠ তলার ব্লাড ব্যাংক থেকে একসেপটেন্স স্বাক্ষর সংগ্রহ করার নিয়ম ছিল। এখন আর ওই নিয়ম নেই। ফলে সরাসরিই হোমিবাবা গোলচত্বরের ব্লাড কালেকশন সেন্টার থেকে ব্লাড স্যাম্পলের বোতল সংগ্রহ করে নিতে হবে। বিকেল ৫টার পর বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্যাজুয়ালিটির পাশের ইমার্জেন্সি ল্যাব রুম থেকে স্যাম্পল নিতে হবে। পরের কাজ সোজা। হোমিবাবা ব্লকের তৃতীয় তলার ব্লাড ব্যাংকে মেমোসহ রক্তের স্যাম্পলটি জমা দিতে হবে। এরপর সিরিয়াল প্রাপ্তির সুবিধার্থে হোমিবাবা ব্লকের পঞ্চম তলায় ডে কেয়ার সেন্টারে আগেভাগে ফাইল জমা দেওয়াই ভালো।

বোনম্যারো পরীক্ষা

নতুন বা পুরনো রোগীদের যদি বোনম্যারো পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে প্রথমেই রোগীর ফাইল নিয়ে গোল্ডেন জুবিলির ৩ তলার কাউন্টারে গিয়ে বুকিং দিতে হবে। এরপর মেইন বিল্ডিংয়ের নিচতলার কোনো একটি কাউন্টারে গিয়ে বানাতে হবে মেমো । যদি ‘সাইটোজেনেটিকস’ টেস্ট থাকে, তাহলে এনেক্স বিল্ডিংয়ের ৭ তলায় “সাইটোজেনেটিকস” বিভাগে গিয়ে অপর একটি মেমো বানাতে হবে।

দেশে ফেরার আগে কিছু জিনিস ক্রসচেক করে নিবেন

চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার আগে নিচের কাজগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখুন –

  • ডাক্তারের কাছ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা সংগ্রহ।
  • পরবর্তী অ্যাপয়নমেন্টের জন্য চিঠি সংগ্রহ (ভারতীয় মেডিকেল ভিসা প্রাপ্তির জন্যও এটা জরুরি)।
  • রোগের ইতিহাস সংক্রান্ত চিঠি সংগ্রহ।
  • ডায়াটিশিয়ানের জন্য যোগাযোগ করে পরবর্তী নির্দেশনা সংগ্ৰহ

বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে কিছু কথা বলছি:

প্রথমেই বলি, ক্যানসার মানে no answer, এই যুগ আর নেই, বিশ্বের উন্নত পাঁচটি দেশের মধ্যে ভারত ও আজ এই রোগ আংশিক বা সম্পূর্ণ নিরাময়ে সক্ষম হয়েছে, চোখের সামনে যুবরাজ সিং, ইরফান খান, সোনালী বিন্দ্রে দের দেখে যেসব রোগী বা রোগীর বাড়ির লোক আশার আলো দেখেন, তাদের জন্য বলা, মনে বিশ্বাস রাখুন, আপনি বা আপনার বাবা, মা, কাকু , জেঠু, ভাই, বোন ও তাদের মতো সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে জীবন ফিরে পেতে পারেন, শুধু চাই সঠিক জায়গায় সঠিক চিকিৎসা, আর মনের বিশ্বাস।

তারকাদের মতো রোগীকে নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়ার সাধ্য হয়তো বেশিরভাগ মানুষেরই নেই, তবু ঘাবড়ে যাবেন না, আমাদের দেশের দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মানুষ থেকে কোটিপতি সবার জন্যই ক্যান্সার এর চিকিৎসা খুব সুলভ মূল্যে করা যায়, ক্যানসার মানেই লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় এই ভুল ধারণা পরিবর্তন করুন, ভারতে যতগুলি ক্যানসার হসপিটাল রয়েছে, TATA_MEMORIAL_HOSPITAL_MUMBAI তার মধ্যে অন্যতম, শুনলে অবাক হবেন পুরো ভারতবর্ষের মোট ক্যানসার রুগীর প্রায় 1/3 ভাগ ক্যানসার রোগী এখান থেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন, নিউইয়র্ক বা লন্ডন থেকে চিকিৎসায় কোনো অংশে কম যায়না এই হসপিটাল, কিন্তু খরচ বিদেশের প্রায় 1/20 ভাগ, শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশ এর প্রচুর রুগী এখানে আসেন, তাছাড়া শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, নাইজেরিয়া, WEST INDIES থেকেও অনেক রুগী আসেন, যাদের নিউ ইয়র্ক, বা লণ্ডন এ চিকিৎসার ক্ষমতা নেই।

কি কি পদ্ধতিতে চিকিৎসা হয়?

  1. PRIVATE- এক্ষেত্রে আপনার খরচ একটু বেশি, পুরোটাই নিজের ব্যয় করে চিকিৎসা করাতে পারবেন, তবু চিকিৎসা ভারতের তথা বিশ্বের সব PRIVATE HOSPITAL এর থেকে যথেষ্ট কম বলা যায়
  2. GENERAL– এক্ষেত্রে আপনি খুব কম পয়সায় বিশ্বমানের চিকিৎসা, এবং ওষুধ, সবই পাবেন, শুধু সামান্য সময় বেশি লাগে, কারণ অজস্র রুগীর ভিড় এখানে, তবু আপনি চিকিৎসায় কোনো খামতি পাবেন না, Private এ যা চিকিৎসা হয় একই Treatment, একই Doctor, একই Medicine, শুধু Central Govt Subsidy, Atomic Energy Dept এর সাহায্য, এবং TATA এর ট্রাস্ট এর সাহায্যের জন্য খরচ খুব কম হয়। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, একদিনের বেড ভাড়া যদি Private এ 3000 টাকা হয়, তো General এ সেটি 250-300 টাকা মাত্র। আবার বলছি General মানে আমাদের সরকারি হাসপাতালের কুকুর বিড়াল শুয়ে থাকা Room ভাববেন না, প্রতিটি Room ই একইরকম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, তাছাড়া Doctor Fees, Medicine সবকিছুতেই একই রকম ছাড় আছে, খুব একটা দেরি ও হয়না General এ, সামান্য দেরি, আর সব রুগীর ক্ষেত্রে যে দেরি হবে তার কোনো মানে নেই, Critical Patient দের খুব দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।
  3. আপনি যদি General এর খরচ ও চালাতে অক্ষম হন, যদিও খুবই কম খরচ, তবু আপনার চিকিৎসা হবে, সেক্ষেত্রে ব্যাপার টা একটু সময় লাগে, এখানে অজস্র ট্রাস্ট এর মাধ্যমে চিকিৎসা হয়, কোনো কোনো রুগীর থাকা খাওয়া অব্দি ব্যবস্থা করে দেয় ট্রাস্ট গুলো, তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য সম্ভবত রুগীর BPL CARD থাকতে হয়, এবং ওখানে ডাক্তার এর একটি অনুমতি পত্র পেতে হয়।

সিদ্ধি বিনায়ক নামে একটি ধর্মীয় ট্রাস্ট, এছাড়া আরো অনেক ধর্মীয় ট্রাস্ট রয়েছে, টাটার নিজস্ব ট্রাস্ট, ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পপতির ও সিনেমা তারকা দের ট্রাস্ট রয়েছে, এগুলো সমন্ধ্যে বিশদ জানা না থাকলেও, প্রয়োজনে আপনি ওখানে যোগযোগ করে সাহায্য পেতে পারেন।

এরপর আসি যাতায়াত

দুরন্ত বাদে, মুম্বাই যাওয়ার প্রতিটি ট্রেন এ ক্যানসার Patient এর 3 Tier Ac তে যাতায়াত একদম বিনামূল্যে, সাথে আর একজন Attendant এর প্রায় অর্ধেক ভাড়া, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনি ওই Hospital থেকেই Form পাবেন।